বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ছিল বিএনপি’র আমলেই: তথ্যমন্ত্রী হালুয়াঘাটে অ্যাম্বোলেন্স সহ দুইটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কার্যক্রমের উদ্বোধন চিরিরবন্দরে মন্দিরের তালা ভেঙে ঠাকুরের শীলা চুরির ঘটনায়ঃ পল্লব রায়কে আটক করেছে থানা পুলিশ। লামায় বন্যা পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সড়ক যোগাযোগ ,বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ও পাহাড় ধস বান্দরবানে টানা ভারী বর্ষণে পাহার ধসের আশঙ্কা বেড়েছে ! শ্রীনগরে কঠোর লকডাউনের ৫ম দিনে ২৬টি মামলা ইসলামপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও নদী ভাঙ্গন পরিবারের মাঝে ঢেউটিন-চেক বিতরণ চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে মর্ডানা ও সিনোফর্মের আরও ১ লাখ ৮৫ হাজার ২’শ ডোজ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন না ফেরার দেশে ছোট রাণী মাতা মাশৈনু বান্দরবানে ২৪ ঘন্টায় করোনা শনাক্ত হার ৪১.৩৩%, মৃত্যু ২ জন!

বিজয়ের মাস গৌরবের মাস




শেরপুরে ঐতিহাসিক কাঁটাখালী গণহত্যা দিবস।

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় | মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০২১
  • ৩৮ বার পঠিত

আজ ৬জুলাই মঙ্গলবার শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঐতিহাসিক কাঁটাখালী গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে ৩মুক্তিযোদ্ধাসহ ১২ জন শহীদ হন।

শহীদ হন একই পরিবারের ৩ মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানি কমান্ডার নাজমুল আহসান, মোফাজ্জল হোসেন ও আলী হোসেন।স্বাধীনতা অর্জনের পর শহীদ নাজমুলের নামে ময়মনসিংহ কৃষি বিদ্যালয়ে একটি হল, নালিতাবাড়ীতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে শহীদ নাজমুলকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ‘অপারেশন কাঁটাখালী’ও রাঙ্গামাটিয়া যুদ্ধের সরকারি স্বীকৃতি মিলেছে।

এছাড়া স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও চেতনা ভাস্বক করে রাখার জন্য স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৯ বছর পর হলেও পুরোনো সেই সেতুটি সংরক্ষণে ইতোমধ্যে সংস্কারসহ একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সাথে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি কাঁটাখালি সেতু অঙ্গনে স্বাধীনতা উদ্যান প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ৫ জুলাই রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কোম্পানী কমান্ডার নাজমুলের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ডিনামাইট ফিট করে ঝিনাইগাতী-শেরপুর সড়কের কাটাখালী সেতু উড়িয়ে দেয়। সফল অপারেশন শেষ করতে ভোর হয়ে যাওয়ায় পাশ্ববর্তী রাঙ্গামাটি গ্রামে আশ্রয় নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। ওই গ্রামের আশ্রয়দাতারা মুক্তিযোদ্ধাদের খাসী জবাই করে খাওয়ার ব্যবস্থাও করেছিলেন।

দিনের আলো ফুটে ওঠায় কোথাও বের হওয়া নিরাপদ মনে না করে ক্লান্ত মুক্তিযোদ্ধারাও সেখানেই ঘুমিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। কিন্তু ওই গ্রামের দালাল জালাল মিস্ত্রী পাক বাহিনীর স্থানীয় হেড কোয়ার্টার আহাম্মদনগর ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের খবরটি পৌঁছে দেয়। সংবাদ পেয়ে পাক হানাদার বাহিনী ৬ জুলাই সকালে রাজাকার, আল-বদরদের সাথে নিয়ে রাঙ্গামাটি গ্রাম তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলে গুলিবর্ষণ শুরু করে। কোম্পানী কমান্ডার নাজমুল আহসানের নেতৃত্ব মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা গুলি ছুড়ে জবাব দেয়। শুরু হয় সন্মুখ যুদ্ধ। পাকি বাহিনী অবিরাম গুলি বর্ষণ শুরু করে।

ওই গ্রামের তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের যাওয়ার একমাত্র পথ খোলা ছিল রাঙ্গামাটি বিলের দিকে। বিলটিও পানিতে তখন টইটুম্বুর ছিল।

এমন অবস্থায় ওই বিলের পানিতে নেমে কভারিং ফায়ার করতে করতে কোম্পানী কমান্ডার নাজমুল আহসান মুক্তিযোদ্ধাদের রাঙ্গামাটি বিলের পানি সাঁতরিয়ে চলে যাবার পথ তৈরী করে দেন। সকলে চলে যাওয়ার পর হঠাৎ পাকিস্তানিদের ব্রাশ ফায়ারে কমান্ডার নাজমুলের বুক ঝাঁঝড়া হয়ে যায়।

কমান্ডার নাজমুলের লাশ আনতে গিয়ে তার চাচাতো ভাই মোফাজ্জল হোসেন ও আলী হোসেনও শহীদ হন পাকিস্তানী বাহিনীর গুলিতে।

এদিন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে রাঙ্গামাটি বিলের পানি রাঙ্গা হয়ে উঠেছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে পাকি বাহিনী রাঙ্গামাটি গ্রামে হানা দিয়ে খুঁজে খুজেঁ বের করে ৬০/৭০ জন গ্রামবাসীকে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ য়ায়ার করে। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন শহীদ হন।

এদের মধ্যে একজন গুলি খেয়েও মৃতের মতো পড়ে থাকেন। মৃত ভেবে পাকবাহিনী তাকে ফেলে চলে যায়। পায়ে বিদ্ধ গুলি নিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেদিনের বিভীষিকা নিয়ে আজও বেঁচে আছেন রাঙ্গামাটি গ্রামের ইউনুছ আলী।

এছাড়া গ্রামের বেশ কয়েকজন নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় হানাদার বাহিনী। শহীদ পরিবারের সদস্যরা বুকফাটা কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছেন। ইতিমধ্যে রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের ৩ নারীকে সরকার বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে।

কিন্তু শহীদ পরিবারগুলোর কোন স্বীকৃতি মেলেনি। গ্রামবাসীদের প্রত্যাশা, তাদের দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়া হোক, উন্নয়ন হোক গ্রামটির।

আরও পড়ুনঃ হালুয়াঘাটে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ইন্জিঃ,কামরুল

নিউজটি সেয়ার করুন:
it.durjoybangla




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

সেহরির শেষ সময় - ভোর ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০৮ অপরাহ্ণ
  • ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
  • ৮:১১ অপরাহ্ণ
  • ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ




©২০১৮ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক লাল সবুজের ১১ নং সেক্টর অব বাংলাদেশ

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102