মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ঝিনাইগাতী উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক হলেন আব্দুল মোতালেব তারাকান্দা ও ফুলপুরে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু কবিতা জিবন মানে। এম এ রহিমের দাদার মৃত্যুতে দৈনিক লাল সবুজের ১১নং সেক্টর অব বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদকের শোক নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুরবানীর মাংস নিয়ে যাওয়ার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১ কবি ডা.মিজানুর মাওলা’র শোকাবহ শ্রদ্ধাঞ্জলি কবিতা- “তুমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব” অটোবাইক নিয়ে পালানোর সময় নারী সহ আটক-৩ ডোমার পৌরসভা জাতীয় পার্টির দ্বী- বার্ষিক সম্মেলন হাবিবুল্লা সভাপতি, হাসান সাধারন সম্পাদক বক‌শীগঞ্জ যাত্রী প‌রিবহ‌নে নৈরাজ‌্য : মানা হ‌চ্ছেনা স্বাস্থ‌্যবি‌ধি প্রবাসীকে চেয়ারম্যান বানাতে বর্তমান চেয়ারম্যানকে ক্রসফায়ারের পরিকল্পনা ওসি প্রদীপের

কাঁচা-পাকা আমের পুষ্টিগুণ ও প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত রচনা-

রিপোর্টারঃ
  • প্রকাশের সময় | শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০
  • ৫৭ বার পঠিত
তথ্য সংগ্রহ লেখকঃ ডা.মিজানুর মাওলা।
আম (ইংরেজি- Mango), ভারতীয় উপমহাদেশীয় এক প্রকারের সুস্বাদু ফল। [২] কাঁচা অবস্থায় রং সবুজ এবং পাকা অবস্থায় হলুদ রং হয়ে থাকে।
আম ভারতের জাতীয় ফল হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশ এবং ভারতে যে প্রজাতির আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica। এটি Anacardiaceae পরিবারের সদস্য।
[৩] তবে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। আমের বিভিন্ন জাত আছে[৪], যেমন ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসা, অরুনা, আম্রপালি, মল্লিকা, সুবর্নরেখা, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, কাঁচামিঠা, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপূরী, কারাবাউ, কেঊই সাউই, গোপাল খাস, কেন্ট, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা, হাড়িভাঙ্গা, ছাতাপরা, গুঠলি, লখনা, আদাইরা, কলাবতী ইত্যাদি।
ভারতের মালদহ , মুর্শিদাবাদ-এ প্রচুর পরিমাণে আম চাষ হয়ে থাকে। আম গাছকে বাংলাদেশের জাতীয় গাছের প্রতীক হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
[৫] বাংলাদেশের রাজশাহী, নওগাঁ,চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষ বেশি পরিমাণে হয়ে থাকে। আমকে বলা হয় ‘ফলের রাজা’। এবং আম গাছকে বলা হয় জাতীয় গাছ।
আম গাছ চাষাবাদ ও ব্যবহার সম্পাদনাঃ
একটি আম গাছ ভারতীয় উপমহাদেশে আম কয়েক হাজার বছর ধরে চাষাবাদ চলছে,[৬] পূর্ব এশিয়াতে আমের প্রচলন হয় খ্রিস্টপূর্ব ৫ম-৪র্থ শতাব্দী থেকে এবং চাষাবাদ শুরু হয় আরো পরে খ্রিষ্টাব্দ ১০ম শতাব্দী দিকে[৬]।
ভারতীয় উপমহাদেশ এবং পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশের পর পৃথিবীর অন্য যেসব দেশে ভারতীয় উপমহাদেশের মত জলবায়ু রয়েছে, যেমন: ব্রাজিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা মেক্সিকোতে আরো অনেক পরে আমের প্রচলন ও উৎপাদন শুরু হয়।
[৬] মরোক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৪ শতকে আমের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন।[৭]
বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত উষ্ণ প্রধান জলবায়ুর অঞ্চল গুলিতে আমের চাষাবাদ হয়। এর মধ্যে অর্ধেকের কাছাকাছি আম উৎপাদন হয় শুধুমাত্র ভারতেই[৮][৯][১০]।
এর পর অন্যান্য যেসব দেশ আম উৎপাদন করে তার মধ্যে আছে চীন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর-দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা প্রভৃতি। আম খুব উপকারী ফল।
বাংলাদেশে চাঁপাইনবাবগন্জ জেলা আমের জন্য বিখ্যাত। “কানসাট আম বাজার” বাংলাদেশ তথা এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ আম বাজার হিসেবে পরিচিত। মকিমপুর, চককির্ত্তী, লসিপুর, জালিবাগান, খানাবাগান সহ বিশেষ কিছু জায়গায় অত্যান্ত সুস্বাদু এবং চাহিদা সম্পুর্ন আম পাওয়া যায়।
আম পাকার সময় সম্পাদনাঃ
আমের নাম পরিপক্বতার সময়
গোবিন্দভোগ ২৫শে মের পর থেকে
গোলাপখাস ৩০শে মের পর থেকে
গোপালভোগ ১লা জুনের পর থেকে
রানিপছন্দ ৫ই জুনের পর থেকে
হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত ১২ই জুনের পর থেকে
ল্যাংড়া ১৫ই জুনের পর থেকে
লক্ষ্মণভোগ ২০শে জুনের পর থেকে
হাড়িভাঙ্গা ২০শে জুনের পর থেকে
আম্রপালি ১লা জুলাই থেকে থেকে
মল্লিকা ১লা জুলাই থেকে থেকে
ফজলি ৭ জুলাই থেকে থেকে
আশ্বিনা ২৫শে জুলাই থেকে
আমের বিভিন্ন প্রকারভেদ (জাত) সম্পাদনাঃ
১. ফজলি
২. সুরমা ফজলী
৩. আশ্বিনা
৪. ক্ষীরমন
৫. সেন্দুরা গুটি
৬. হাড়িভাঙ্গা
৭. আলফানসো
৮. ল্যাংড়া
৯. গৌড়মতি
১০. গোপালভোগ
১১. মধু চুষকী
১২. বৃন্দাবনি
১৩. লখনা
১৪. তোতাপুরী (ম্যাট্রাস)
১৫. রাণী পছন্দ
১৬. ক্ষিরসাপাত
১৭. আম্রপালি
১৮. হিমসাগর
১৯. বাতাসা
২০. ক্ষুদি ক্ষিরসা
২১. বোম্বাই
২২. সুরমা ফজলি
২৩. সুন্দরী
২৪. বৈশাখী
২৫. বিয়ার চারা
২৬. রসকি জাহান
২৭. হীরালাল বোম্বাই
২৮. ওকরাং
২৯. মালদা
৩০. শেরীধণ
৩১. শামসুল সামার
৩২. বাদশা
৩৩. রস কি গুলিস্তান
৩৪. কন্দমুকাররার
৩৫. নাম ডক মাই
৩৬. বোম্বাই (চাঁপাই)
৩৭. ক্যালেন্ডা
৩৮. রুবী
৩৯. বোগলা
৪০. মালগোভা
৪১. হিমসাগর রাজশাহী
৪২. কালুয়া (নাটোর)
৪৩. চৌষা লখনৌ
৪৪. সিডলেস
৪৫. কালিভোগ
৪৬. বাদশাভোগ
৪৭. কুষ্ণকলি
৪৮. পাটনাই
৪৯. গুটি লক্ষনভোগ
৫০. বাগান বিলাস
৫১. গুটি ল্যাংড়া
৫২. পাটুরিয়া
৫৩. পালসার
৫৪আমিনা
৫৫কাকাতুয়া
৫৬চালিতা গুটি
৫৭রং ভীলা
৫৮বুদ্ধ কালুয়া
৫৯রাজলক্ষী
৬০মাধুরী
৬১ব্যাঙ্গলোরা
৬২বন খাসা
৬৩পারিজা
৬৪চন্দনখোস
৬৫দুধ কুমারী
৬৬ছাতাপোরা
৬৭চোষা
৬৮জিলাপি কাড়া
৬৯শীতল পাটি
৭০পূজারী ভোগ
৭১জগৎ মোহিনী
৭২দিলসাদ
৭৩বিশ্বনাথ চ্যাটার্জি
৭৪বেগম বাহার
৭৫রাজা ভুলানী
৭৬নাবি বোম্বাই
৭৭সিন্দি
৭৮ভূতো বোম্বাই
৭৯গোলেক
৮০বারি আম ৭
৮১কালী বোম্বাই
৮২চকচকা
৮৩পেয়ারা ফুলী
৮৪ভ্যালেনাটো
৮৫সিন্দুরী ফজলী
৮৬আমব্রা
৮৭গুলাবজামুন
৮৮আলম শাহী
৮৯অস্ট্রেলিয়ান আম
৯০মায়া
৯১দাদাভোগ
৯২শরবতি ব্রাউন
৯৩আলফান
৯৪রত্না
৯৫লাড্ডু সান্দিলা
৯৬ছোটীবোম্বাই
৯৭কালিজংগী
৯৮দ্বারিকা ফজলি
৯৯মিঠুয়া
১০০বোম্বে সায়া
১০১বোম্বে গ্রিন
১০২তোহফা
১০৩কাচ্চা মিঠা মালিহাবাদ
১০৪তৈমুরিয়া
১০৫জাহাঙ্গীর
১০৬কাওয়াশজি প্যাটেল
১০৭নোশা
১০৮জালিবাম
১০৯বাগান পল্লি
১১০ভারতভোগ
১১১ফজরী কলন
১১২সাবিনা
১১৩সেন সেশন
১১৪লতা বোম্বাই
১১৫আল্লামপুর বানেশান
১১৬আর-২ এফ-২
১১৭শ্রাবণী
১১৮ইমামপছন্দ
১১৯জনার্দনপছন্দ
১২০কৃষ্ণভোগ
১২১সারুলী
১২২ইলশে পেটী
১২৩কলম বাজি
১২৪ইয়াকুতিয়া
১২৫গুটী
১২৬ভুজাহাজরী
১২৭ম্যাটরাজ
১২৮সামার বাহিতশত আলীবাগ
১২৯.গোলাপবাস
১৩০. জুলী
১৩১. ভেজপুরী
১৩২. কালুয়া গোপালভোগ
১৩৩. কলম সুন্দরী
১৩৪. বনারাজ
১৩৫. ম্যাডাম ফ্রান্সিস
১৩৬. মিক্সড স্পেশাল
১৩৭. মোহাম্মদ ওয়ালা
১৩৮. সফেদা মালিহাবাদ
১৩৯. খান বিলাস
১৪০. জাফরান
১৪১. মধু মালতী
জিতুভোগ
পলকপুরী
কাকরহিয়া সিকরি
পাথুরিয়া
বোম্বে কলন
কেনসিংটন
কাকরহান
মিছরি দমদম
সামার বাহিশ্ত
মানজানিল্লো নুনেজ
নাজুকবদন
ফারুকভোগ
রুমানি
টারপেন টাইন
কেনসিংটন
কাকরহান
মিছরি দমদম
সামার বাহিশ্ত
মানজানিল্লো নুনেজ
নাজুকবদন
ফারুকভোগ
রুমানি
টারপেন টাইন
কুমড়া জালি
দুধিয়া
মহারাজ পছন্দ
ম্যানিলা
পিয়ারী
জান মাহমুদ
সামার বাহিশত রামপুর
মাডু
লা জবাব মালিহাবাদ
লাইলী আলুপুর
নীলম
মিশ্রীভোগ
পদ্মমধু
বাঙামুড়ী
পুনিত (হাইব্রিড-১৩)
বেলখাস
শ্রীধন
আমান খুর্দ বুলন্দাবাগ
পালমার
কারাবাউ
অ্যামিলী
কোরাকাও ডি বই
নিসার পছন্দ
পাহুতান
বোররন
হিন্দি
সফেদা বাদশাবাগ
র্যাড
আরুমানিস
বাংলা ওয়ালা
মোম্বাসা
রোসা
ক্যাম্বোডিয়ানা
ফজরী জাফরানী
বোম্বাইখুর্দ
এক্সট্রিমা
বদরুল আসমার
শাদওয়ালা
সামার বাহিশত কারানা
এসপাডা
বাশীঁ বোম্বাই
কর্পূরা
হুসনে আরা
সফেদা লখনৌ
শাদউল্লা
আজিজপছন্দ
কর্পূরী ভোগ
জিল
সারোহী
গ্লেন
টমি অ্যাটকিনসন
স্যাম-রু-ডু
মাবরোকা
হিমাউদ্দিন
ফ্লোরিডা
কেইট
ইরউইন
নাওমী
কেন্ট
টাম অ্যাটকিন্স
আলফন্সো
নারিকেল ফাঁকি
জামাই পছন্দ
লক্ষণভোগ
ভাদুরিয়া কালুয়া
চিনি ফজলী
মল্লিকা
সূর্যপুরী
হায়াতী
পাউথান
দুধস্বর
গোলাপ খাস
বেনারসী ল্যাংড়া
পাটনামজাথী
জালিবান্দা
মিছরিদানা
নাক ফজলী
সুবর্ণরেখা
কালা পাহাড়
বারি আম-২
বউ ভুলানী
জমরুদ
অরুনা (হাইব্রিড-১০)
নীলাম্বরী
ফোনিয়া
চৌষা
ডায়াবেটিক আম
সিন্ধু
বোগলা গুটি
রাজভোগ
দুধস্বর ( ছোট )
মোহন ভোগ
হাঁড়িভাঙ্গা
টিক্কা ফরাশ
আম্রপলি (বড়)
হিমসাগর (নাটোর)
মৌচাক
মহানন্দা
তোতাপুরী
বাউ আম-৩
বারি-৩
পুকুর পাড়
কোহিতুর
বিলু পছন্দ
কাগরী
চিনিবাসা
দুধ কুমার
মন্ডা
লাড্ডু
সীতাভোগ
শোভা পছন্দ
গৃঠাদাগী
ছোট আশ্বিনা
ঝুমকা
দুসেহরী
কালী ভোগ
ভবানী চরুষ
আলফাজ বোম্বাই
মধুমনি
মিশ্রীকান্ত
গিড়াদাগী
কুয়া পাহাড়ী
বিড়া
দ্বারভাঙ্গা
বারি আম-৪
আরাজাম
গোবিন্দ ভোগ
কাঁচামিঠা
মতিমন্ডা
পোল্লাদাগী
দাদভোগ
শ্যামলতা
মিশ্রীদাগী
কিষান ভোগ
ভারতী
বারোমাসি
দেওভোগ
বারি-৮
আম্রপলি (ছোট)
সিদ্দিক পছন্দ
লতা
বাদামী
আনারস
জহুরী
রাখাল ভোগ
গুটি মালদা
বারি আম-৬
রগনী
বাউনিলতা
গৌরজিত
বেগম ফুলি
আপুস
ফজরীগোলা
সফেদা
আনোয়ার রাতাউল
বাবুই ঝাঁকি
মনোহারা
রাংগোয়াই
গোল্লা
কাজি পছন্দ
রাঙামুড়ী
বড়বাবু
করল্লা
জালিখাস
কালিয়া
সাটিয়ারকরা
সফদর পছন্দ
ছুঁচামুখী
বারি আম-৫
কাদের পছন্দ
এফটি আইপি বাউ আম-৪
দিল্লির লাড়ুয়া
টিয়াকাটি
এফটি আইপি বাউ আম-৯(শৌখিন চৌফলা)
এফটি আইপি বাউ আম-১(শ্রাবণী-১)
এফটি আইপি বাউ আম-৭(পলি এ্যাম্বব্রায়নী-২)
এফটি আইপি বাউ আম-২ (সিঁন্দুরী)
এফটি আইপি বাউ আম-১০(শৌখিন-২)
৩৪০. এফটি আইপি বাউ
৩৪১. আম-৩(ডায়াবেটিক)
৩৪২. এফটিআইপি বাউ আম-৮ (পলিএ্যাম্বব্রায়নী-রাংগুয়াই-
৩৪৩. এফটি আইপি বাউ আম-১১(কাচা মিঠা-১)
৩৪৪. এফটি আইপি বাউ
৩৪৫. আম-৬(পলিএ্যাম্বব্রায়নী-১)
৩৪৬. এফটিআইপি বাউ আম-১২(কাচা মিঠা-২)
৩৪৭. এফটি আইপি বাউ
৩৪৮. আম-১৩(কাঁচামিঠা-৩)
৩৪৯. এফটি আইপি বাউ আম-৫(শ্রাবণী-২)
ঔষধিগুন সম্পাদনাঃ
আয়ুর্বেদ ও ইউনানি পদ্ধতির চিকিৎসায় পাকা ফল ল্যাকজেটিভ, রোচক ও টনিক বা বলকারকরূপে ব্যবহৃত হয়। রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে পাকা আম এমনকি কাঁচা আম মহৌষধ। কচি পাতার রস দাঁতের ব্যাথা উপশমকারী। আমের শুকনো মুকুল পাতলা পায়খানা, পুরনো অমাশয় এবং প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রনা উপশম করে। জ্বর, বুকের ব্যথা, বহুমূত্র রোগের জন্য আমের পাতার চূর্ণ ব্যবহৃত হয়।
ব্যবহার সম্পাদনাঃ
ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি আম থেকে চাটনি,আচার,আমসত্ত্ব, মোরব্বা,জ্যাম,জেলি ও জুস তৈরি হয়।
পুষ্টিগুণ সম্পাদনাঃ
স্বাদে, পুষ্টিতে ও গন্ধে আম অতুলনীয়। তাই আমকে বলা হয় ফলের রাজা। আমে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ বা ক্যারোটিন, ভিটামিন ‘সি’, খনিজ পদার্থ ও ক্যালরি রয়েছে। ভিটামিন ‘এ’ এর দিক থেকে আমের স্থান পৃথিবীর প্রায় সব ফলেরই উপরে।
কাঁচা আমের গুণাগুনঃ
বাইরে এখন তীব্র রোদের আঁচ। সঙ্গে গা পোড়ানো গরম। এ সময় কাঁচা আমের এক গ্লাস শরবত সারা শরীরে এনে দিতে পারে প্রশান্তি। বাজারে এখন কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে। দামও নাগালে। কাজেই কাঁচা আমের শরবতে প্রাণটাকে শীতল আর শরীরটাকে চাঙা করার সুযোগ রয়েছে।
পুষ্টিবিদেরা বলেন, কাঁচা বা পাকা দুই ধরনের আমই শরীরের জন্য ভালো৷ আম কাঁচা বা পাকা যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন, শরীরের জন্য এর কোনো নেতিবাচক দিক নেই বললেই চলে।
শরীর ঠাণ্ডা রাখেঃ
কাঁচা আম বা আমের রসে পটাশিয়াম থাকায় প্রচণ্ড গরমে তা শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। কাঁচা আমের গুণ প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদেরা বলেন, ১০০ গ্রাম কাঁচা আমে পটাশিয়াম থাকে ৪৪ ক্যালরি। এ ছাড়া ৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ২৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। কাঁচা আমের আরও কিছু গুণের কথা জেনে নিন।
ওজন কমাতে পারে কাঁচা আমঃ
যাঁরা ওজন কমাতে বা শরীরের বাড়তি ক্যালরি খরচ করতে চান, তাঁদের জন্য এখন আদর্শ ফল কাঁচা আম। পাকা মিষ্টি আমের চেয়ে কাঁচা আমে চিনি কম থাকে বলে এটি ক্যালরি খরচে সহায়তা করে।
অম্লতা দূর করেঃ
বুক জ্বালাপোড়া বা অম্লতার সমস্যায় ভুগছেন? কাঁচা আম এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। অম্লতা কমাতে কাঁচা আমের এক টুকরো মুখে দিতে পারেন।
সকালের বমি ভাব দূর করে
অনেকেরই সকালে উঠে বমি বমি ভাব হয়। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা যাঁরা। এ সমস্যা দূর করতে পারে কাঁচা আম।
ঝিমুনি দূর করেঃ
দুপুরে খাওয়ার পর এই গরমে কিছুটা ঝিমুনি ভাব দেখা দিতে পারে। কাঁচা আমে আছে প্রচুর শক্তি। দুপুরের খাওয়ার পরে কয়েক টুকরা কাঁচা আম খেলে ঝিমুনি দূর হয়।
যকৃতের সমস্যা দূর করেঃ
যকৃতের রোগ নিরাময়ের প্রাকৃতিক বন্ধু হতে পারে কাঁচা আম। কয়েক টুকরো কাঁচা আম চিবানো হলে পিত্তরস বৃদ্ধি পায়। এতে যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং অন্ত্রের জীবাণু সংক্রমণ দূর হয়।
ঘামাচি প্রতিরোধ করেঃ
গরমের সময় ঘামাচি একটি অস্বস্তিকর ব্যাপার। ঘামাচির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সবচেয়ে ভালো উপায় কাঁচা আম খাওয়া। কাঁচা আমে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা সানস্ট্রোক হতে বাধা দেয়।
রক্তের সমস্যা দূর করেঃ
কাঁচা আমে আয়রন বা লৌহ থাকায় রক্তস্বল্পতা সমস্যা সমাধানে বেশ উপকারী।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ
খাদ্য হজমে সহায়তা করে কাঁচা আম। অন্ত্রকে পরিষ্কার করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় কাঁচা আম। টুকরো করে আম কেটে লবণ মাখিয়ে তা মধুসহযোগে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
শরীরে লবণের ঘাটতি দূর করেঃ
গরমে অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও লৌহ বের হয়ে যায়। কাঁচা আমের জুস শরীরের এই ঘাটতি দূর করে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধেঃ
কাঁচা আম খেলে ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কাঁচা আম।
স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া রোধ করেঃ
কাঁচা আম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি জোগাতে পারে। স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া কমায় কাঁচা আম। আমচুর স্কার্ভি নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী। নিশ্বাসের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয় রোধেও সহায়তা করে কাঁচা আম।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ
কাঁচা আম খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
শরীর ঠান্ডা থাকেঃ
কাঁচা আমে পটাশিয়াম থাকার কারণে তা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে৷ এ কারণে শরীরে ঘাম কম হয়। গরমে ক্লান্তিও দূর হয় ৷
চুল ও ত্বক উজ্জ্বল করেঃ
প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে তা চুল ও ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে ৷
হজম ভালো হয়ঃ
গ্যালিক অ্যাসিড থাকার কারণে তা হজম-প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে৷
সতর্কতাঃ
কথায় আছে, অতিরিক্ত কোনো কিছু ভালো নয়। কাঁচা আম খাওয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা আম খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ কাঁচা আমের কষ মুখে লাগলে ও পেটে গেলে মুখ, গলা ও পেটে সংক্রমণ হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সাবধান।
পাকা আমের উপকারিতাঃ
আম কেন খাবেন? আমের উপকারিতা  ও পুষ্টিগুণ কি কি?
১. পাকা আম আমাদের ত্বক কে সুন্দর, উজ্জ্বল ও মসৃণ করে। শুধু তাই নয়, এটি আমাদের ত্বকের ভেতর ও বাইরে থেকে উভয়ভাবেই সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। আম আমাদের ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ও ব্রণের সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
২. গাছপাকা আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে খনিজ লবণের উপস্থিতিও রয়েছে । আমাদের শরীরের দাঁত, নখ, চুল ইত্যাদি মজবুত করার জন্য আমের খনিজ লবণ উপকারী ভূমিকা পালন করে।
৩. সাধারণত পাকা আম ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ফলে মুখের ও নাকের উপর জন্মানো ব্ল্যাকহেড দূর করতে অনেকাংশে সাহায্য করে। আপনি যদি প্রতিদিন ১০০ গ্রাম পাকা আম খান তাহলে আপনার মুখের কালো দাগ দূর হবে।
৪. আমের উপকারিতা গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে আমের পুষ্টি উপাদান। পাকা আমের আঁশে কিছু উপাদান যেমন- ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ থাকায় তা হজমে সহায়তা করে থাকে। আমে আছে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম এটা আমাদের শরীরের প্রোটিন অণুগুলো ভেঙ্গে ফেলতে সাহায্য করে যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
৫. আমে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনোইডস উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে সুস্থ ও সবল রাখে।
৬. আমে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন- বি কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন আমাদের শরীরের স্নায়ুগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরকে রাখে পুরোপুরি সতেজ। যার ফলে খুব দ্রুত ঘুম আসতে সাহায্য করে।
৭. আমে রয়েছে বেটাক্যারোটিন, ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম। এসব উপাদান পরিমাণে পর্যাপ্ত থাকায় পাকা আম হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।আমাদের হার্টকে সুস্থ ও সবল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৮. আপনি যদি প্রতিদিন এককাপ আম খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার শরীরে ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদার প্রায় পঁচিশ শতাংশের যোগান দিতে পারবে। ভিটামিন ‘এ’ আমাদের চোখের জন্য খুবই উপকারী। এটি আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে।
৯. আমে প্রচুর পরিমাণে এসিড থাকে যেমন- টারটারিক এ্যাসিড, ম্যালিক এ্যাসিড ও সাইট্রিক এ্যাসিড যা আমাদের শরীরে অ্যালকালাই বা খার ধরে রাখতে সহায়তা করে অনেকাংশেই।
১০. আমের মধ্যে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কিনা শরীরের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্তন, লিউকেমিয়া, কোলন প্রোস্টেট ক্যান্সারের মত মারাত্মক ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে প্রয়োজনীয় এনজাইমও পাওয়া যায়।
১১. পাকা আম পটাশিয়ামসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি আমদের হার্টবিট ও রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আমাদের হার্টবিটকে সচল রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
১২. পাকা আম আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কারে সহায়তা করে। আমের মধ্যে থাকা টারটারিক, ম্যালিক ও সাইট্রিক এ্যাসিড শরীরে অ্যালকোহল ধরে রাখতে সহায়তা করে।
১৩. আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমে ভিটামিন-সি এর পরিমাণ বেশি। যা আমাদের দাঁত ও হাড় গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
১৪. আম আমাদের শরীরের ক্ষয়রোধ করে। প্রতিদিন আম খেলে দেহের ক্ষয়রোধ হয় এবং স্থূলতা কমিয়ে শারীরিক গঠনে ইতি বাচক ভূমিকা পালন করে।
১৫. শুধু তাই নয়, আমের ভেষজ গুণ আমাদের স্কিন ক্যান্সারসহ ভিভিন্ন জটিল রোগ থেকে রক্ষা করে।
১৬. আমে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ সেই সাথে আরো আছে ফাইবার যা সিরাম কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টরল যেমন কম ঘনত্বের লাইপোপ্রটিন এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
অতএব বুঝতেই পারছেন আমের উপকারিতা অপরিসীম। আসছে আমের সিজন। অবশ্যই আপনি এবং আপনার পরিবারের সদস্যরা আম খাবেন। তবে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত আম খেতে হবে। বাজারের ফরমালিন যুক্ত আমের উপকারিতা থেকে অপকারিতাই বেশি। এই বিষয়ে সাবধান হবেন।
আমের অপকারিতা বা ক্ষতিকর সম্পদনাঃ
ডা. সঞ্চিতা বর্মন মতে
পাকা আম বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
আমকে বলা হয় ফলের রাজা। আম খেতে যেমন সুস্বাদু ও রসালো তেমনি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অতুলনীয়। পাকা আমে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন এ বা বিটা ক্যারোটিন। পাশাপাশি আম একটি উচ্চ মাত্রার চিনি, কার্বোহাইড্রেট ও গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ ফল। তাছাড়া পাকা আমে ফিনোলিকস জাতীয় উপাদান থাকার কারণে এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস।
কিন্তু চিকিত্সকগণ জানিয়েছেন, পাকা আম খাওয়া ভালো তবে খুব বেশি খাওয়া ঠিক নয়। পাকা আমে চিনির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে যাদের ডায়াবেটিস আছে অথবা হবার সম্ভাবনা আছে তাদের জন্য আম খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। মাঝারি মাপের একটি পাকা আমে ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই কেউ যদি পরপর বেশ কয়েকটি আম খেয়ে ফেলেন তবে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কাঁচা আম পাকাতে অনেক সময় ক্যালমিয়াম কার্বাইড নামক রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় যা আমের খোসায় রয়ে যায়। এটি অনেক সময় অ্যালার্জির কারণও হতে পারে। যাদের অ্যাজমার সমস্যা ও কিডনির সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে আম কম খেতে হবে। এছাড়া আমে শর্করার হার বেশি থাকে যা শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। তাই আম খাওয়ার আগে অবশ্যই এর ক্ষতিকর দিক চিন্তা করে পরিমাণমত খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
স্বাগতম আপনাকেঃ- যে কোনো বিষয় ভিত্তিক পোস্ট পেতে Md Mizanur Rahman(কবি ডা.মিজানুর মাওলা)র fb.ও Youtube এবং Goggles ঘুরে দেখার আমন্ত্রণে-
প্রচারে ও প্রকাশে তথ্য’সংগ্রহ রচনায়; লেখক-কলামিষ্ট, আলোচক, গবেষক, সাহিত্যিক, কবি মিজানুর মাওলা (অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও সাংবাদিক)।
ঠিকানা- ঢাকাস্থ বরিশাল হিজলা উপজেলা।

নিউজটি সেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

সেহরির শেষ সময় - ভোর ৪:০৯ পূর্বাহ্ণ
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০৭ অপরাহ্ণ
  • ৪:৪০ অপরাহ্ণ
  • ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
  • ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
  • ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

©২০১৮ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক লাল সবুজের ১১ নং সেক্টর অব বাংলাদেশ

কারিগরি সহযোগিতায় durjoybangla.com
themesba-lates1749691102